বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক ভ্রমন গাইড

Reporter Name / ৬৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

কেনো যাবেন গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে, কারণ এই পার্কে সকলের চলাচল জন্য ১৬ কোটি টাকায় সাজানো হলো পার্কের ৫ ধরনের হাঁটার পথ। এটা হলো বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কের ভেতরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য,সৌন্দর্যে ভরা বিকালে সকলের মনে আকর্ষণ করার মত চার পাশের জায়গায়।

নিঃশব্দ সবুজের মাঝে লুকিয়ে আছে এক স্বপ্নের বই ঘর, এইটা হলো হলুদ গ্যান্দা ফুল যার সোনালী রঙে ভরা এক টুকরো রোদ, যা বাগানের সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
আর এই পার্কে আপনি কীভাবে আসবেন, আর এই পার্কের কোন জায়গায় কী কী আছে এবং দুপুর ও বিকালে কোথায় খাওয়া দাওয়া করবেন।

এটা হলো স্যুট-কোটের আভিজাত্যে গুলশানের এলাকা সব সময়ই থাকে লোকারণ্যে ভরপুর।

ঠিক সামনে পশ্চিম দিকে তাকালেই চোখে ধরা দেবে এক নজরকাড়া দৃশ্য সাদা মোটা অক্ষরে লেখা স্টিলের সাইনবোর্ড, যেখানে গর্বের সাথে লেখা আছে: “বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক এর নাম।

যেটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন গুলশান-২ এ অবস্থিত বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক ৯.৪৫ একর জমির ওপর নির্মিত একটি আধুনিক ও সবুজ নগর উদ্যান, এটি ২০২০ সালে উদ্বোধন করা এই পার্কটি, এবং এই পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট কাটতে হয় না একদম বিনামূল্যে।

ইচ্ছেমতো ভেতরে ঢুকে ঘুরে বেড়াতে পারবেন, উপভোগ করতে পারবেন, ১৭০০+-এর বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং একটি পুনরুজ্জীবিত লেক রয়েছে

সবুজ প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত একটি সুন্দর বিশ্রাম ও বিনোদনের জায়গা।লেকের চারপাশে মনোরম হাঁটার রাস্তা বা ওয়াকওয়ে এবং বসার জন্য ঘাটের ব্যবস্থা আছে, এরপর সামনের দিকে একটু হাঁটতেই চোখে পড়বে একদম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সকলের হাঁটাচলার জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকায় সাজানো এই পার্কে তৈরি করা হয়েছে ৫ ধরনের হাঁটার পথ, যেখানে সবুজের মাঝখান দিয়ে পরিবারসহ শান্তভাবে হাঁটাচলা করা যায়।

বিকেল হলেই এখানে জমে ওঠে প্রাণের স্পন্দন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আড্ডা, ঘুরাঘুরি আর হাসিমুখে সময় কাটানো। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিও এই পার্ককে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।

ঘোরাঘুরির পর পরিবার নিয়ে একটু বিশ্রামের কথা ভাবলেই সামনে ধরা দেবে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পুকুরের ধারে গড়ে ওঠা ঝুলন্ত ব্রিজ।

এখানে ঝুলন্ত ব্রিজের উপর হাসিমুখে সবাইকে দেখা যায় কেউ গল্প করছে, কেউ ছবি তুলছে, আবার কলেজ-ভার্সিটির ছাত্রছাত্রী ও বিদেশি পর্যটকরাও এই সৌন্দর্য উপভোগ করছে। মাঝে মাঝে এখানে গানের শুটিংয়ের দৃশ্যও চোখে পড়ে, যা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পুকুর থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে তৈরি করা হয়েছে ইটের বসার ব্যবস্থা, যেখানে বসে আপনি পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আরাম করে গল্প করতে পারবেন, উপভোগ করতে পারবেন শান্ত ও মনোরম পরিবেশ।

এই পার্কের সৌন্দর্য শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এখানে রয়েছে একটি সুপরিকল্পিত শিশুদের খেলার ইয়ার্ড, যেখানে ছোট্টদের হাসি আর আনন্দে মুখর থাকে পুরো পরিবেশ। পাশাপাশি আছে একটি ছোট কিন্তু আধুনিক ব্যায়ামাগার (জিমন্যাসিয়াম), যেখানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষরা নিয়মিত শরীরচর্চায় মগ্ন থাকেন।

এর সাথে বিস্তৃত খোলা ব্যায়ামের মাঠ, যা সকাল-বিকাল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ খেলাধুলায় ব্যস্ত, আবার কেউবা নিজেকে ফিট রাখার জন্য ব্যায়ামে নিমগ্ন। সব মিলিয়ে, এই স্থানটি শুধু বিনোদনের নয়, বরং সুস্থ ও সক্রিয় জীবনের এক অনন্য কেন্দ্র। এই পার্কের ভেতরে শুধুমাত্র ঘোরাঘুরি নয়, দর্শনার্থীদের আরাম ও প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে নানা আধুনিক সুবিধা। এখানে রয়েছে একটি সুশৃঙ্খল কমিউনিটি লাইব্রেরি, যেখানে বইপ্রেমীরা নিরিবিলি পরিবেশে জ্ঞানচর্চায় মগ্ন হতে পারেন, সময় কাটাতে পারেন প্রশান্তির সঙ্গে। নারীদের জন্য আলাদা করে সাজানো হয়েছে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় বসার জোন, যা তাদের জন্য একটি শান্ত ও ব্যক্তিগত পরিবেশ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি রয়েছে ছোট পানীয়ের কর্ণার ও কিয়স্ক, যেখানে দর্শনার্থীরা সহজেই হালকা খাবার ও পানীয় সংগ্রহ করতে পারেন, শরীরের ক্লান্তি দূর করতে পারেন মুহূর্তেই।

এছাড়াও, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক টয়লেট সুবিধা এই পার্ককে আরও ব্যবহারবান্ধব করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, এই পার্কটি শুধু বিনোদনের জায়গা নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও আরামদায়ক অভিজ্ঞতার স্থান, যেখানে প্রতিটি দর্শনার্থীর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রতিটি কোণা। এই পার্কের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে একটি মনোমুগ্ধকর সবুজ অ্যাম্ফিথিয়েটার ও সুসজ্জিত মঞ্চ, যা প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করেছে।

চারপাশে সবুজ ঘাসে ঘেরা এই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ যেন নিজেই এক জীবন্ত দর্শকসারি, যেখানে বসে মানুষ উপভোগ করে নানা আয়োজনের রঙিন মুহূর্ত।

এই মঞ্চেই নিয়মিত আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক কিংবা কবিতার আবৃত্তি যা পুরো পার্ককে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। সন্ধ্যা নামলেই আলো আর সুরের মিশেলে এই জায়গাটি রূপ নেয় এক অন্য জগতে, যেখানে দর্শনার্থীরা হারিয়ে যান শিল্প ও সংস্কৃতির আবেশে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category